ভিডিও এডিটিং কি? ভিডিও এডিটিং করে আয় করার উপায়

ভিডিও এডিটিং একটি জনপ্রিয় স্কিল, বর্তমানে যার প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বেশ ভালো অংকের অর্থ আয় করা সম্ভব। এই পোস্টে ভিডিও এডিটিং থেকে আয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ভিডিও এডিটিং কি?

সাধারণভাবে ভিডিও এডিটিং বলতে ভিডিও কাট, ট্রিম ও ক্লিপসমূহকে সিকোয়েন্স আকারে সাজিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিওতে রুপান্তরকে বুঝায়। এছাড়াও এনিমেশন, কালার গ্রেডিং, প্রি-প্রোডাকশন স্টোরিরাইটিং, ইত্যাদিও ভিডিও এডিটিং এর অন্তর্ভুক্ত। মূলত রেকর্ডের পর একটি ভিডিওতে প্রাণ প্রদান করেন একজন ভিডিও এডিটর।

ভিডিও এডিটিং এর সময় ভিডিওতে যেকোনো পরিবর্তন থেকে শুরু করে অডিও বা মিউজিক যুক্ত করা পর্যন্ত, সকল কাজ একজন ভিডিও এডিটর করে থাকেন।

একজন ভিডিও এডিটর মূলত পোস্ট-প্রোডাকশনে অধিক সময় কাজ করে থাকেন। ভিডিও সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সকল টার্ম একজন ভিডিও এডিটরের জানা থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও মোশন গ্রাফিক্স ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস সম্পর্কেও ভালো ধারণা থাকা জরুরি, কেননা এসব বিষয় বর্তমানে ভিডিওতে বেশ জনপ্রিয়।

ভিডিও এডিটিং করে আয় করার উপায়

ভিডিও এডিটিং এর ক্ষেত্রে আপনার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকলে তা থেকে আয় করতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক ভিডিও এডিটিং করে আয় করার কিছু উপায় সম্পর্কে।

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং ভিডিও এডিটিং এর কাজ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রোমোট করা যায়। ফাইভার ও আপওয়ার্ক এর মতো ওয়েবসাইটে ভিডিও এডিটিং এর দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভালো অংকের অর্থ আয় করা যায়। তবে এসব ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হওয়ার কারণে কাজ পাওয়া কিছুটা দুঃসাধ্য হয়ে যায়।

তাই শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং এর উপর নির্ভর না করে তালিকায় থাকা ভিডিও এডিটিং থেকে আয়ের অন্য উপায়সমূহ অনুসরণ করতে পারেন।

লোকাল বিজনেসের কাজ করা

বিজ্ঞাপন আজকাল ব্যবসার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। যার ফলে স্থানীয় ব্যবসাসমূহের বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরী ও এডিটিং এর প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞাপন, প্রেজেন্টেশন, ট্রেনিং ভিডিও, ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ভিডিও এডিটর হায়ার করে থাকে

একজন ভিডিও এডিটির হিসেবে স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে নিজের সার্ভিস অফার করতে পারেন। কোনো ব্যবসার যদি আপনার ভিডিও এডিটিং সার্ভিস প্রয়োজন না হয়, তবে তাদের পরিচিত অন্য ব্যবসার হয়ত আপনার সেবার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাও কাস্টমার বা ডোনার পেতে ভিডিও তৈরী করে থাকে।

এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিডিও এডিটিং কাজ করে আয় করা যায়। কাজের পোর্টফোলিও তৈরীতে বিশেষ ক্ষেত্রে বিনামূল্যে কাজের অফার প্রদান করতে পারেন।

[★★] ফেসবুক প্রোফাইল থেকে টাকা আয়ের উপায়

ওয়েডিং ফুটেজ এডিট

আমাদের দেশে বিয়ের ভিডিও এডিটিং একটি ডিমান্ডিং সার্ভিস। বিয়ের ফুটেজ এডিটিং এর কাজ পেতে ওয়েডিং ভিডিওগ্রাফারদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন। এছাড়াও ওয়েডিং প্ল্যানার, ভেন্যু, ইত্যাদি স্থান থেকেও ওয়েডিং ফুটেজ এডিটিং এর কাজ পেতে পারেন। মোট কথা হচ্ছে চোখকান খোলা রাখতে হবে আশেপাশের পরিবেশে, তবেই কাজ পাওয়া সম্ভব।

রিয়েল এস্টেট ভিডিও ফিল্ম ও এডিট

কোনো প্রোপার্টি সেল করতে তার বিজ্ঞাপনের স্বার্থে ভিডিও তৈরী ও এডিটিং এর প্রয়োজন পড়ে রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের। এসব রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করে প্রোপার্টির ভিডিও ফিল্ম ও এডিটিং এর কাজ করে আয় করতে পারেন। এমনকি বিভিন্ন হোটেল, এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স এর জন্যও একই সেবা প্রদান করতে পারেন।

👉 দারাজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করুন

ভিডিও এডিটিং কোর্স

আপনি যদি একজন অভিজ্ঞ ভিডিও এডিটর হয়ে থাকেন, তবে আপনার জ্ঞান অন্যদের সাথে শেয়ার করেও আয় করতে পারেন। প্রথমত চাইলে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে অন্যদের ভিডিও এডিটিং শেখাতে পারেন। এরপর যখন আপনার যথেষ্ট ফলোয়ার তৈরী হবে, তখন প্রিমিয়াম এডিটিং কোর্স তৈরী করে তা বিক্রি করতে পারেন। একবার কোর্স তৈরী সম্পন্ন হয়ে গেলে তা প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করবে।

নতুন নতুন যারা ভিডিও এডিটিং শুরু করছেন, তাদের জন্য ভিডিও এডিটিং এর কোর্স তৈরী করে তাদের সাহায্য করার পাশাপাশি আপনিও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন জটিল বিষয়ে কোর্স তৈরী করে তা বিক্রি করতে পারেন। কোর্স বিক্রি করার পাশাপাশি সরাদরি ইন-পার্সন ভিডিও এডিটিং শেখানোর কাজও নিতে পারেন।

ভিডিও এডিটিং করে আয় করার উপায়

ইউটিউবারদের ভিডিও এডিট

শিক্ষামূলক বা আনন্দদায়ক ভিডিও শেয়ার করার জন্য ইউটিউব একটি অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেল তৈরী করতে চান, এমন সকল ব্যক্তি কিন্তু অভিজ্ঞ ভিডিও এডিটর নন। যার ফলে তারা অন্য অভিজ্ঞ ভিডিও এডিটরদের হায়ার করে থাকেন।

আপনি যদি ভিডিও এডিটিং এর কাজ পারেন, তবে এসব ইউটিউবারের ভিডিও এডিটিং এর বিনিময়ে আয় করতে পারেন। এছাড়াও অনেক ইউটিউব ক্রিয়েটরদের নিজের ভিডিও এডিটিং এর সময় থাকেনা, তাদের ভিডিও এডিটিং এর কাজ করে আয় করা সম্ভব। ইউটিউবারদের ভিডিও এডিটিং এর কাজ পেতে সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

👉 গ্রাফিক্স ডিজাইন এর মাধ্যমে আয় করার উপায়

এডুকেশনাল ভিডিও

বিভিন্ন জটিল বিষয়ে শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরীর প্রয়োজন পড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের এই ধরনের ভিডিও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যেমনঃ একটি প্রযুক্তি কোম্পানির এক্সপ্লেনার ভিডিওর প্রয়োজন হতে পারে, যা ব্যবহার করে কাস্টমারকে জটিল কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হবে।

আবার কোনো আর্থিক ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার থেকে ফান্ড কালেক্ট করতে ভিডিও এর প্রয়োজন হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের ভিডিও এডিটিং এর কাজ করে ভালো অংকের অর্থ আয় সম্ভব।

প্রোমোশনাল ভিডিও

ভিডিও এডিটিং এর কাজের ক্ষেত্রে প্রোমোশনাল ভিডিও এর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অভিজ্ঞ ভিডিও এডিটর এর অভাব অনেক। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট প্রোমোট করতে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারেক্টিভ ভিডিও এর প্রয়োজন হয়। আপনি যদি এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকরী ভিডিও তৈরী করতে পারেন, তবে ভালো অংকের অর্থ আয় করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনার কাজের কোয়ালিটি ভালো হলে, উক্ত কোম্পানি আপনাকে পারমানেন্টলি হায়ার ও করতে পারে।

Add Comment

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুনলাইক ফেসবুক
+ +