“প্রাথমিক শিক্ষা ব‍্যবস্থায়, সৃজনশীলতা শিশুর জন্যে কতটুকু সফলতা বয়ে আনছে….❓❓❓”

❇️❇️❇️আসসালামু আলাইকুম। আশা করি  সকলেই মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ

আজ প্রাথমিক শিক্ষা ব‍্যবস্থায় সৃজনশীল প্রশ্নকাঠামোর পক্ষে বিপক্ষে কিছু কথা না বলে পারছি না। এর যেমনি ইতিবাচক দিক আছে, ঠিক এর নেতিবাচক দিক ও আছে। আমার দৃষ্টিতে এর নেতিবাচক প্রভাবটা শিশুর মানসিকতাকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যেমন ধরুন, শিশু তার শ্রেণির নির্ধারিত পাঠ‍্যপুস্তক থেকে যা শিখছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ঠিক উল্টোটা পাচ্ছে। এতে করে তাদের পড়াশোনার প্রতি দিন দিন বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হচ্ছে। অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে, আগ্ৰহ হারিয়ে ফেলছে।শিশুরা ভাবে এগুলো শিখে কি লাভ

এগুলো থেকে তো পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন আসে না। যেগুলো পরীক্ষায় আসে, সেগুলো শিশুরা লিখতে পারছে না। প্রাথমিকে এ পদ্ধতিটি প্রত‍্যেকটি শিশুর মনমানসিকতাকে দিন দিন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিষয়টি কিন্তু সবাইকে একবার হলেও ভেবে দেখার মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

এ পদ্ধতিটিতে তিন ধরনের প্রশ্ন করা হয়। (১) জ্ঞান; (২) অনুধাবন; (৩) প্রয়োগ।

জ্ঞানমূলক প্রশ্নে, শিশুকে সরাসরি তার জ্ঞান থেকে, জানা থেকে, স্মৃতি থেকে উত্তর দিতে হবে অনুধাবন প্রশ্নে শিশু অনুমান করে, তুলনা করে, পার্থক্য করে শিশুকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রয়োগ মূলক প্রশ্নে, শিশু ব‍্যাখ‍্যা,বিশ্লেষণ করে, অংক করে, তালিকা তৈরি করে সরাসরি দেখিয়ে দিয়ে,খাতায় উত্তর করতে হবে।  এগুলো আমি এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করছি। এবার আমি চিন্তা করে নিচে কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম।

1️⃣  শিশুর বয়সই বা কতটুকু?

2️⃣ শিশুর জ্ঞানই বা কতটুকু? যে জ্ঞান থেকে,অনুধাবন করে, প্রয়োগ করে উত্তর দেয়ার মতো সামর্থ্য বা যোগ্যতা কি তার আছে?

3️⃣  শিশুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন?

4️⃣ তার পরিবারে কতজন লোক শিক্ষিত আছে?এভাবে আরো অনেক প্রশ্ন আছে। যাইহোক, বাংলাদেশ গ্ৰাম প্রধান দেশ। এখানকার লোকজন অধিকাংশই নিরক্ষর। তাদের আর্থিক অবস্থা ও ভালো নয়।  গ্ৰামাঞ্চলের স্কুল গুলোতে যেখানে ছাত্রছাত্রীদের একটি পাঠ শেখাতে শিক্ষকদের এক মাসের অধিক সময় লাগে। তা ও পুরোপুরি শিখনফল অর্জিত হয় না। আরো কত সমস্যা? লিখে শেষ করা যাবে না। প্রাথমিকে যে সৃজনশীল প্রশ্নগুলো আসে, সেগুলো নিয়ে শিক্ষকদের অনেক কিছু ঘাটাঘাটি করতে হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তা কিভাবে পারবে বলে আশা করেন।

এই সমস্যা গুলো নিয়ে কেউ ভাবেন না।  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লোকেরা এসিরুমে বসে, ঢাকা মেগাসিটির বাচ্ছাদের মত গ্ৰামের শিশুদের মেপে এসব পদ্ধতি  চালু করেই যাচ্ছেন। আর শিক্ষকদের উপর নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। এ পদ্ধতিটি ভালো ছাত্রদের জন্য ভালো। আর দুর্বলরা আরো দুর্বল হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে শিশুরা বানান শিখছে না, উচ্চারণ শিখছে না। দেখে দেখে পাস মার্কের নম্বর পেয়ে পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েই যাচ্ছে। এতে পড়ালেখার গুণগত মান বাড়ছে না।                              ✅✅✅  একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার মতামত হলো: শিক্ষার একটা নিদিষ্ট স্তর শেষে শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অর্জন করার পর এই সৃজনশীল প্রশ্নকাঠামো পদ্ধতিটি চালু করলে, শিক্ষার্থীদের মেধার পূর্ণ বিকাশ লাভ সম্ভব। অর্থাৎ সৃজনশীল পদ্ধতিটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে চালু  করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পরিশেষে বলছি, সুপ্রিয় পাঠক মহল বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি গোচর হলে জাতি উপকৃত হবে। আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে আওয়াজ তুলবেন। এই অনুরোধ রইলো সবার প্রতি। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে শেষ করছি।ধন্যবাদ।♥️♥️♥️

Add Comment

সরাসরি ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলা দেখুন ফ্রীতেWatch Now